খুলনার রূপসার শতাধিক মানুষের কয়েক’শ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে 

ফ্যাসিষ্ট সরকারের দোসর খুলনা- ৪ আসনের এমপি সালাম মুর্শেদীর আর্থিক যোগান দাতা ও ক্যাশিয়ার এবং শতশত বিঘা সরকারী ভূমি দখলকারী স্থানীয় গরীব মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রলোভনে দাদন হিসেব গৃহীত শতশত টাকা আত্বসাত করে আত্মগোপনে চলে গেছে খুলনার রুপসা উপজেলার ইট ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী গোলাম সারোয়ার।

খুলনার রূপসার শতাধিক মানুষের কয়েক’শ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে 

ফ্যাসিষ্ট সরকারের দোসর খুলনা- ৪ আসনের এমপি সালাম মুর্শেদীর আর্থিক যোগান দাতা ও ক্যাশিয়ার এবং শতশত বিঘা সরকারী ভূমি দখলকারী স্থানীয় গরীব মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রলোভনে দাদন হিসেব গৃহীত শতশত টাকা আত্বসাত করে আত্মগোপনে চলে গেছে খুলনার রুপসা উপজেলার ইট ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী গোলাম সারোয়ার।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায় ভুক্তভোগী প্রতারিত শতশত জনগন সম্প্রতি তারিখে রুপসা উপজেলা চত্তরে মানববন্ধন করেছে এবং তাকে গ্রেপ্তার করে টাকা আদায় করার ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ইউএনও বরাবর স্বারক লিপি প্রদান করেছে। ৩০% থেকে ৪০% মুনাফার লোভ দেখিয়ে স্থানীয় সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে কয়েক শত কোটি টাকা গ্রহন করেছে,কিন্তু  মুনাফাতো দুরের কথা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বছরের পর বছর গেলেও মূল টাকা ফেরত পর্যন্ত দেয়নি। অতি লাভের আশায় অনেকে জমি জমা বিক্রি করে সারোয়ারকে টাকা দিয়ে আজ পথের ভিখারি হয়েছে।

চতুর সরোয়ার আইনের হাত থেকে বাইরে থাকার জন্য নিরীহ জনগনের সাথে কোন কোন ক্ষেত্রে স্টাম্পে চুক্তি না করে তার ইটভাটার প্যাডে চুক্তি করেছে। তারাই কাউকে ইসলামী ব্যাংকের এডভান্স চেক প্রদান করেছে।রুপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের ৭-৮ টি গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদের নিকট থেকে প্রতারণা করে সরোয়ার যে পরিমান  অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে তা যোগ করলে প্রায় কয়েক শত কোটি টাকা হবে।

ভূক্ত ভোগী পাওনাদারদের কেউ কেউ তার বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিলে প্রতারক সারোয়ার উল্টো তাদেরকে ভয় দেখাচ্ছে যে কেউ যদি তার বিরুদ্ধে মামলা করে তা হলে তাকে কোন টাকাই ফেরত দিবে না।এ ভয়ে মুল টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় কেউ মামলা করতে সাহস পাচ্ছে না এমনকি মুখ ও খুলছে না।তারপরও বহু অনুনয় বিনয় করার পর টাকা না পেয়ে বিরক্ত হয়ে রুপসা উপজেলার মাছুয়া ডাঙ্গা গ্রামের খায়রুজ্জামান লিটুর স্ত্রী হাসিনা খুলনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদলতে গোলাম সারোয়ারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। যার নাম্বার-সিআর -২১৭/২৫(রুপসা)। তবে সারোয়ার পালিয়ে যাওয়ার ভুক্তভোগীরা সংগোবদ্ধ হয়ে মানববন্ধন করেছে এবং তার বাড়ীর গেটে ব্যানার লাগিযে দিয়েছে।

বিষয়ে রুপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব মাহফুজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান বিয়য় আমাদের নজরে আছে, কিন্তু ভুক্তভোগী কেউ মামলা দায়ের না করলে আমাদের কিছু করার ক্ষমতা সীমিত । আমরা অনেক ভুক্তভোগী দের মামলা করার অনুরোধ করেছি, কিন্তু কোন অজানা কারণে তারা মামলা করতে ভয় পাচ্ছে। তারপরও নাম প্রকাশ না করার শর্তে সামন্তসেনা গ্রামের কয়েকজন যেমন “সা” অক্ষরের-২০ লক্ষ, “মা” অক্ষরের ১৭ লক্ষ, মোঃ শেখের চার  ছেলে-২ কোটি, ফকির-৫০ লক্ষ, “ক” ফকিরের পুত্র-৫ লক্ষ, দেবীপুর গ্রামের তালুকদারের ছেলে-২০ লক্ষ, ইলাইপুর গ্রামের —- গ্রেডার-৬০ লক্ষ সহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তি অতি মুনাফার লোভে জমি বিক্রি করে সারোয়ারকে টাকা দিয়ে আজ নিঃস্ব হয়ে তারা আজ পাগল প্রায়।

সন্ত্রাসী সরোয়ার শুধু জনগনের কাছ থেকে অর্থ গ্রহন করে নি, বিভিন্ন মসজিদ কমিটির নিকট থেকেও অতি মুনাফার লোভ দেখিয়ে অর্থ সংগ্রহ করেছে। প্রতারক সারোয়ার নিরিহ গ্রামের মানুষের শতকোটি টাকা আত্মসাৎ করে খুলনা শহরের হাজী মহসিন রোডের —- নং হোল্ডিং এ এক আলীশান বহু তলা ভবন নির্মান করে বসবাস করছে। প্রতারণার অর্থে সারোয়ার নৈহাটি, কিসমত খুলনা, শ্রীরামপুর সহ বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় শতশত বিঘা জমি ক্রয় করে রেখেছে।আওয়ামীলীগ আমলে তালিমপুর গ্রামের মোল্লা বাড়ীর এক বিএনপি নেতার কাছ থেকে সারোয়ার ২০ লক্ষ টাকা গ্রহন করেছিলো।

জুলাই আগস্টের পট পরিবর্তনের পর সেই বিএনপি নেতা তাঁর ক্যাডার বাহিনী দিয়ে সারোয়ারকে পাকড়াও করেছিলো। তারই প্রক্ষিতে সারোয়ার বাঁধ্য হয়ে সেই নেতার নামে জমি লিখি দিতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু নিরীহ পাওনাদারবৃন্ধ সকাল সন্ধ্যা সারোয়ারের ইটভাটা ও শহরের বাড়ীতে হানা দিয়ে সফল হতে পারেনি। কারণ সারোয়ার দল পরিবর্তন করে কিছু বিএনপি নেতার আশ্রয় গ্রহন করলেও সাবেক আওয়ামী এমপি সালাম মুর্শেদীর সকল সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে সারোয়ার।আওয়ামীলীগের আমলে যেমন কেউই তাকে স্পর্শ করেতে পারেনি এখনও বিএনপি নেতাদের ছত্রছায়াই সারোয়ার ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে।

সারোয়ারের প্রতারণা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম তার পরিবারের ঐতিহ্য। তার বড় ভাই ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক ও সন্ত্রাসী চক্রের সাথে জড়িত ছিল। স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতানৈক্যের কারনে তার নিজ গ্রুপের  সন্ত্রাসীদের হাতে কয়েক বছর পূর্বে গোলাম ফারুক খুন হয়েছিল। আওয়ামীলীগ এমপি আঃ সালাম মুর্শেদীর ক্যাশিয়ার ও অর্থযোগান দাতা এবং সন্ত্রাসী কাজের দোসর সারোয়ার প্রতারণার মাধ্যমে শুধু নিরীহ মানুষের অর্থ আত্মসাৎ করছে তা নয়, সারোয়ার শতাধিক বিঘা সরকারী খাস এবং অর্পিত সম্পত্তি দখল করে কয়েকটি ইটের ভাটা তৈরী করেছে।এ কাজে এমপি আঃ সালাম মুর্শেদী ও তৎকালীন উপজেলা  চেয়ারম্যান (আওয়ামী লীগ নেতা) বাদশা ছিল তার সহায়ক শক্তি।রুপসা উপজেলার নৈহাটি তহশিলের  তৎকালীন তহসিলদার জনাব মনিরুজ্জামান সরকারী নির্দেশ মোতাবেক দখলকৃত সরকারী সম্পত্তি চিহ্নিত করে একটি প্রতিবেদন তৈরী করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছিল।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় আওয়ামী দোসর ভুমি দস্যু  সারোয়ার চরশ্রীরামপুর মৌজার ৮০ বিঘা খাস জমি যার আর এস দাগ নং-২৯,৩৫,৬৫, ৬৮-৭০,৮১৭-৯৮,১১৬,১৫১,১৮৬,২৫১ ও ২৮৪ নিজে দখল করে রেখেছে। একই মৌজার৮০ বিঘা অর্পিত সম্পত্তি যার দাগ নং -১৪.২৪,২৫,২৬,৩৮,৪০,৪৩,৪৪,১১৪,১২৯,১৩৬,২৭৯,১৪৮,১৫৪,১৫৩,১৬৫,১৭১,এবং ২৫৪ এর অর্পিত সম্পত্তি দখল করে ইটভাটা তৈরী করে চুটিয়ে ব্যবসা করছে। এ ছাড়াও আঠোরোবাকি নদীর পাড়ে প্রায় শত বিঘা ব্যক্তি মালিকানার ফসলীয় জমি জোর করে দখল করে ইটভাটা তৈরী করেছে।

আওয়ামী ভুমি দস্যু সারোয়ারের বিরুদ্ধে ভুমি দখলের বিবরণ সম্বলিত তহসিলদার মনিরুজ্জামান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট প্রতিবেদন উপস্থাপনের খবর পেয়ে  সারোয়ার তার আশ্রয়দাতা এমপি সালাম মুর্শেদী ও উপজেলা চেয়ারম্যান বাদশার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ভাবে জনাব মনিরুজ্জামানকে ডুমুরিয়া উপজেলা তে বদলী করে দেয়। প্রতিবেদনে ভয়াবহ যে চিত্রটি তহসিলদার তুলে ধরেছিলো তা হচ্ছে নদী তীরের ফসলী জমির মাটি কেটে ইট বানানো।

স্থানীয় ভাবে তৈরী করা High Powered  dredging machine যাকে স্থানীয় ভাষায় “আত্বঘাতি” মেশিন নামে অভিহিত করা হয় সে মেশিনের মাধ্যমে নদীর পাড়ের জমি কেটে চুটিয়ে ইটের ব্যবসা করেছে। ঐ হাই পাওয়ার ড্রেজিং মেশিনের পাইপ নদী তীরের গভিরে ঢুকিয়ে বালু তুলে ফেলে। ঐ বালু ইট তৈরীতে ব্যবহার করে। এবং পানি থেকে পাইপ তোলার পরপরই বালু তোলার ফাঁকা স্থানে তীরবর্তী মাটি হুড়মুড় করে পড়ে যায়। তখন সে মাটি আবার ঐ মেশিনের মাধ্যমে উত্তোলন করে অল্প খরচে ইট তৈরী করে বছরের পর বছর চুটিয়ে ব্যবসা করেছে সারোয়ার। সম্প্রতি পাওনাদার ভুক্তভোগী কিছু জনগন সারোয়ারের পরিত্যাক্ত ইটভাট থেকে তার অনেকগুলি ইট পরিবহনের ট্রলি নিয়ে যায়।

চতুর সারোয়ার তার ভাই গোলাম রসুলকে ঐ ট্রলিগুলির মালিক দাবীদার বানিয়ে সেগুলি উদ্ধারের জন্য স্থানীয় বিএনপি নেতা খায়রুল মোল্লার শরণাপন্ন হয় এবং খায়রুল মোল্লা পুলিশের উপর চাপসৃষ্টি করে উদ্ধারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কিছু জনগন জানান সন্ত্রাসী সারোয়ার প্রাক্তন গুরু আওয়ামী এমপি সালামের পরিবর্তে বর্তমান বিএনপি নেতা খায়রুল মোল্লাকে আকড়ে ধরেছে এবং খায়রুল মোল্লা হাওয়া ভবনের সাথে সম্পৃক্ত খুলনা একজন ডাকসাইটে বিএনপি নেতাকে সম্পৃক্ত করে গোলাম সারোয়ারের ইটভাটার বিরাট সম্রাজ্য দখলে নেয়ার পায়তারা করছে। এ সংবাদে শতশত ব্যাক্তি পাওনাদার এবং বহু সংখ্যক মসজিদ কমিটির মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে।

পাওনাদারদের অনেকেই বিএনপি রাজধানীর সাথে জড়িত তারা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন জনাব তারেক রহমানের নজরে আনার জন্য যাতে বিএনপির কোন নেতা আওয়ামী সন্ত্রাসী এবং ভূমি দস্যু গোলাম সারোয়ারকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে না আসে। জনগন এবং মসজিদ কমিটি যেন তাদের পাওনা সারোয়ারের কাছ খেকে আদায় করতে পারে তার জন্য সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পূর্ন সহযোগিতা জন্য মানব বন্ধন সহ বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করে যাচ্ছে।